Skip to main content

সূরাতু আলে-ইমরানের (১২৩-১২৯) আয়াতসমূহের তাফসীর, আলোচ্যবিষয়: বদরের গৌরবময় বিজয়ের স্মৃতিসুধা।

﴿وَلَقَدْ نَصَرَكُمُ اللَّهُ بِبَدْرٍ وَأَنْتُمْ أَذِلَّةٌ فَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ (123) إِذْ تَقُولُ لِلْمُؤْمِنِينَ أَلَنْ يَكْفِيَكُمْ أَنْ يُمِدَّكُمْ رَبُّكُمْ بِثَلَاثَةِ آلَافٍ مِنَ الْمَلَائِكَةِ مُنْزَلِينَ (124) بَلَى إِنْ تَصْبِرُوا وَتَتَّقُوا وَيَأْتُوكُمْ مِنْ فَوْرِهِمْ هَذَا يُمْدِدْكُمْ رَبُّكُمْ بِخَمْسَةِ آلَافٍ مِنَ الْمَلَائِكَةِ مُسَوِّمِينَ (125) وَمَا جَعَلَهُ اللَّهُ إِلَّا بُشْرَى لَكُمْ وَلِتَطْمَئِنَّ قُلُوبُكُمْ بِهِ وَمَا النَّصْرُ إِلَّا مِنْ عِنْدِ اللَّهِ الْعَزِيزِ الْحَكِيمِ (126) لِيَقْطَعَ طَرَفًا مِنَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَوْ يَكْبِتَهُمْ فَيَنْقَلِبُوا خَائِبِينَ (127) لَيْسَ لَكَ مِنَ الْأَمْرِ شَيْءٌ أَوْ يَتُوبَ عَلَيْهِمْ أَوْ يُعَذِّبَهُمْ فَإِنَّهُمْ ظَالِمُونَ (128) وَلِلَّهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ يَغْفِرُ لِمَنْ يَشَاءُ وَيُعَذِّبُ مَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ (129)﴾ [سورة آل عمران: 123-129].

আয়াতসমূহের আলোচ্যবিষয়: বদরের গৌরবময় বিজয়ের স্মৃতিসুধা।

আয়াতসমূহের সরল অনুবাদ:
১২৩। আর অবশ্যই আল্লাহ তোমাদেরকে বদরের যুদ্ধে সাহায্য করেছেন, এমতাবস্থায় যে তোমরা হীনবল ছিলে; অতএব তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো।
১২৪। স্মরণ করো, যখন তুমি মুমিনদেরকে বলেছিলে: তোমাদের জন্য কি যথেষ্ট নয় যে, তোমাদেরকে সাহায্য করবেন তোমাদের রব তিন হাজার নাযিলকৃত মালাইকা দিয়ে।
১২৫। হ্যা, যদি তোমরা ধৈর্য ধারণ করো এবং তাক্বওয়া অবলম্ভন করো, আর তারা আকস্মিকভাবে তোমাদের মুখোমুখি এসে যায়, এ অবস্থায় তোমাদেরকে তোমাদের রব পাঁচ হাজার চিহ্ণিত মালাইকার দ্বারা সাহায্য করবেন।
১২৬। আর আল্লাহ তাকে করেননি তোমাদের জন্য সুসংবাদ ছাড়া আর কিছু এবং যাতে এর দ্বারা তোমাদের ক্বলব প্রশান্ত হয়; আর আল-আজীজ, আল-হাকীম আল্লাহর নিকট ছাড়া অন্য কারো পক্ষ থেকে সাহায্য আসে না।
১২৭। যাতে তিনি কাফিরদের একটি অংশকে নিশ্চিহ্ণ করেন, অথবা তাদেরকে লাঞ্চিত করেন; ফলে তারা নিরাশ হয়ে ফিরে যাবে।
১২৮। এ বিষয়ে তোমার কিছু করণীয় নেই, হয়তো তিনি তাদেরকে ক্ষমা করবেন, অথবা তাদেরকে আযাব দিবেন, কারণ তারা যালিম।
১২৯। আর আল্লাহর জন্যই যা আছে আকাশসমূহে এবং যা আছে যমীনে। তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন এবং যাকে ইচ্ছা আযাব দেন; আর আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

আায়াতসমূহের ভাবার্থ:
অহুদ যুদ্ধের প্রেক্ষাপট বর্ণনার পর আল্লাহ তায়ালা মুসলমানদের বদরের যুদ্ধের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তখন মুসলমানরা ছিল সংখ্যায় অল্প, দুর্বল এবং প্রায় নিরস্ত্র। মদিনা থেকে বের হয়েছিল মাত্র ৩১৩ জন সাহাবি, হাতে ছিল মাত্র দুটি ঘোড়া ও সামান্য অস্ত্রশস্ত্র। বিপরীতে মুশরিকরা এসেছিল প্রায় এক হাজার যোদ্ধা নিয়ে, আধুনিক ও পর্যাপ্ত অস্ত্রসহ। এমন বিপর্যস্ত পরিস্থিতিতেও মুসলমানরা আল্লাহর বিশেষ সাহায্যে বিজয় লাভ করেছিল। সুতরাং এ ঘটনা থেকে বুঝা যায় বিজয় কখনো সংখ্যার আধিক্য বা সামরিক শক্তির ওপর নির্ভর করে না; বরং তা নির্ভর করে তাকওয়া, ধৈর্য ও আল্লাহর সাহায্যের ওপর। তাই আল্লাহকে ভয় করতে হবে, তাঁর বিধান মানতে হবে এবং মনে রাখতে হবে, প্রতিটি বিজয়ই তাঁর বিশেষ অনুগ্রহ।
এরপর আল্লাহ তায়ালা স্মরণ করিয়ে দেন যে, বদরের দিনে রাসূলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের বলেছিলেন, “তোমাদের কি যথেষ্ট নয় যে, আল্লাহ তোমাদের সাহায্যে তিন হাজার ফেরেশতা নাযিল করবেন?” সংখ্যায় অল্প ও শত্রুর শক্তি দেখে সাহাবিদের অন্তরে যে দুশ্চিন্তা ও ভয় জন্মেছিল, এই সুসংবাদ তা দূর করে তাদের অন্তরকে সাহসে ভরিয়ে তোলে। এটি ছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে আসন্ন বিজয়ের প্রথম সুসংবাদ।
অতঃপর আল্লাহ ঘোষণা করলেন, যদি মুসলমানরা ধৈর্য ধারণ করে, তাকওয়া অবলম্বন করে এবং শত্রুর মুখোমুখি হতে দৃঢ়চিত্ত থাকে, তবে তিনি পাঁচ হাজার চিহ্নিত ফেরেশতা পাঠিয়ে তাদের সাহায্য করবেন। ফেরেশতারা এমনভাবে অংশ নেবে যাতে মুসলমানরা বুঝতে পারে, তারা একা নয়, আসমান থেকেও সাহায্য নেমে এসেছে। আর আসমানি সাহায্য আসে তখনই, যখন বান্দারা ধৈর্যশীল হয়, ন্যায়পরায়ণ থাকে এবং আল্লাহভীরু হয়ে চলে।
ফেরেশতাদের অবতরণের উদ্দেশ্য ছিল মুমিনদের অন্তরে প্রশান্তি আনা, তাদের মনোবল দৃঢ় করা এবং বিজয়ের বিষয়ে দৃঢ় বিশ্বাস জাগানো। প্রকৃতপক্ষে বিজয়ের একমাত্র উৎস আল্লাহ, যিনি পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়। তাই বাহ্যিক শক্তি বা কৌশল নয়, আল্লাহর ইচ্ছা ও পরিকল্পনাই শেষ কথা। যে কোনো বিজয়কে তাই নিজের শক্তি বা পরিকল্পনার কৃতিত্ব না ভেবে আল্লাহর অনুগ্রহ হিসেবে স্বীকার করতে হবে।
ফেরেশতাদের অবতরণের আরও একটি উদ্দেশ্য ছিল অবিশ্বাসীদের একাংশকে ধ্বংস করা এবং বাকিদের মনোবল ভেঙে দেওয়া। বদরের যুদ্ধে কুরাইশদের ৭০ জন প্রভাবশালী নেতা নিহত হয়েছিল, যা তাদের শক্তিকে দুর্বল করে দেয় এবং মুসলমানদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়। এটি মুশরিকদের জন্য সতর্কবার্তা ছিল যে আল্লাহর বিরুদ্ধে দাঁড়ালে শেষ পরিণতি পরাজয় ও লজ্জা ছাড়া আর কিছু নয়।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বদরের যুদ্ধে কিছু কাফিরের জন্য ধ্বংস কামনা করেছিলেন। কিন্তু আল্লাহ তায়ালা জানিয়ে দিলেন, কাউকে শাস্তি দেওয়া বা ক্ষমা করা তাঁর একচ্ছত্র অধিকার। মানুষ কেবল চেষ্টা ও দোয়া করতে পারে, কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আল্লাহর হাতে। তাই শত্রুর জন্যও হিদায়াত কামনা করা উচিত, কারণ আজকের শত্রুও কাল তওবা করে মুমিন হতে পারে, যেমন খালিদ ইবনে ওয়ালিদ ও আবু সুফিয়ান পরবর্তীতে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন।
সবশেষে আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করলেন, আসমান ও জমিনের মালিকানা কেবল তাঁর। তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন, যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেন। আর তাঁর দয়া সীমাহীন। এ ঘোষণায় মুমিনদের মনে আশা জন্মায়, তারা যদি তওবা করে, আল্লাহ অবশ্যই ক্ষমা করবেন। একই সঙ্গে এটি একটি সতর্কবার্তা যে, জুলুম করলে এবং অবিশ্বাসে অটল থাকলে আল্লাহর শাস্তি অনিবার্য। (আইসার আল-তাফাসীর, জাযায়েরী: ১/৩৭২,৩৭৩,৩৭৫, তাফসীর আল-মুনীর, জুহাইলী: ৪/৭০-৭৪, আল-তাফসীর আল-মুয়াস্সার: ১/৬৫-৬৬, আল-মোন্তাখাব: ১/১০৬-১০৮)।

আয়াতসমূহের বিরল শব্দের ব্যাখ্যা:
﴿بَدْرُ﴾ ‘বদর’, একজন মানুষের নাম। তার নামানুসারেই এ স্থানের নামকরণ হয়েছে, কারণ এখানে তার একটি প্রশিদ্ধ ক‚প ছিলো। বর্তমানে এ স্থানটি মদীনা মোনাওরাহ থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটি জনপদ। (আইসার আল-তাফাসীর, জাযায়েরী: ১/৩৬৯) ।
﴿أَذِلَّةٌ﴾ ‘দুর্বল’, আয়াতে উদ্দেশ্য হলো- তারা ছিল সংখ্যা ও সামর্থে খুবই অল্প, আর প্রতিরোধ করার মতো শক্তিও ছিল না। (তাফসীর গরীব আল-কোরআন, কাওয়ারী: ৩/১২৩) ।
﴿وَيَأْتُوكُمْ مِنْ فَوْرِهِمْ﴾ “তারা অল্প সময়ের মধ্যে তোমাদের মুখোমুখি হয়ে যায়”, এ বাক্যের উদ্দেশ্য হলো: শত্রু বাহিনীর সেই অতিরিক্ত অংশ, যাদেরকে কুর্জ ইবনু জাবির নিয়ে আসার কথা ছিল, তারা যদি স্বল্প সময়ের মধ্যেই যুদ্ধে যোগ দিত, তাহলে আল্লাহ মুসলমানদেরকে পাঁচ হাজার ফেরেশতার মাধ্যমে সাহায্য করতেন। (তাফসীর আত-তাবারী: ৭/১৭৩) ।

উল্লেখিত আয়াতসমূহের সাথে পূর্বের আয়াতসমূহের সম্পর্ক:
উহুদ যুদ্ধে মোনাফেকদের সরদার আব্দুল্লাহ ইবন উবাই ইবন সুলূলের পরোচনায় যখন দুইটি মুসলিম দল আওস ও খাজরাজ গোত্রদ্বয়ের মনোবল ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছিল, কাপুরুষতা ও দুর্বলতায় তারা ব্যর্থ হতে যাচ্ছিল। এবং সর্বশেষে রাসূলুল্লাহর (সা.) নির্দেশ অমান্য করে যখন তিরন্দাজ বাহিণী তাদের জায়গা ছেড়ে গনীমতের সন্ধানে বের হওয়ার কারণে মুসলমানদের সাময়ীক পরাজয় হয়েছিল, তখন উল্লেখিত আয়াতসমূহে বদরের যুদ্ধে মুসলমানদের বিজয়ের স্মৃতি তাদেরকে স্মরণ করিয়ে তাদের মনোবল ফিরিয়ে এনেছিল। (তাফসীর আল-মুনীর, জুহাইলী: ৪/৬৫) ।

সূরাতু আলে-ইমরানের ১২৮ নং আয়াত অবতীর্ণের প্রেক্ষাপট:
ইমাম আহমাদ ও মুসলিম আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, উহুদ যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (সা.) এর সামনের দাঁত (রুবাইয়া) ভেঙে যায় এবং তাঁর মাথায় আঘাত লাগে, এমনকি রক্ত মুখমন্ডল বেয়ে ঝরে পড়ে। তখন তিনি গভীর ব্যথা ও দুঃখে বললেন: “কীভাবে এমন একটি জাতি সফল হতে পারে, যারা তাদের নবীকে এরকম কষ্ট দিল, অথচ তিনি তাদেরকে তাদের রবের দিকে ডাকছেন?” তখন আল্লাহ তায়ালা ১২৮ নং আয়াত নাজিল করেন।
ইমাম আহমাদ ও বুখারি ইবন উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহকে (সা.) বলতে শুনেছি: “হে আল্লাহ! অমুককে অভিশাপ দাও, হে আল্লাহ! হারিস ইবন হিশামকে অভিশাপ দাও, হে আল্লাহ! সুহাইল ইবন আমরকে অভিশাপ দাও, হে আল্লাহ! সফওয়ান ইবন উমাইয়াকে অভিশাপ দাও।” তখন ১২৮ নং আয়াত নাজিল হয়। পরে আল্লাহ তাদের সবাইকে তাওফিক দিলেন এবং তারা ইসলাম কবুল করলেন। ইমাম বুখারি (রহ.) আবু হুরায়রা (রা.) থেকেও অনুরূপ হাদিস বর্ণনা করেছেন।
হাফিজ ইবনু হাজার আসকালানী (রহ.) বলেন: এ দুইটি হাদিসের মধ্যে সমন্বয় হলো যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন উহুদে আহত হলেন, তখন তিনি দুঃখবশত তাদের বিরুদ্ধে বদদোয়া করেছিলেন। আয়াতটি নাজিল হয় উভয় ঘটনাকে কেন্দ্র করে। তাঁর আহত হওয়ার ঘটনায় যে ব্যথা জন্মেছিল। সেই দুঃখ থেকেই যে বদদোয়া উচ্চারিত হয়েছিল। অর্থাৎ আল্লাহ নবীকে শিখালেন, হিদায়াত বা ধ্বংসের চ‚ড়ান্ত সিদ্ধান্ত কারও হাতে নয়, বরং একমাত্র আল্লাহর হাতে। (লুবাব আল-নুক‚ল, সুয়ূতী: ৬৯) ।

বদর যুদ্ধের সংক্ষিপ্ত ঘটনা:
বদরের যুদ্ধ হয়েছিল হিজরতের দ্বিতীয় সনের রমযান মাসের ১৭ তারিখে। কারণ ছিল মক্কার কুরাইশরা মুসলমানদের সম্পদ ও বাড়িঘর কেড়ে নিয়েছিল। মুসলমানরা তাদের শামের কাফেলা আক্রমণ করে এই ক্ষতিপূরণ আদায় করতে চেয়েছিল। এতে কুরাইশরা রাগান্বিত হয়ে এক হাজারেরও বেশি সৈন্য নিয়ে মদিনার মুসলমানদের আক্রমণ করতে বের হয়। এ দিকে রাসূলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের সঙ্গে পরামর্শ করে ৩১৩ জন সাহাবিকে নিয়ে বদরের দিকে রওনা হন। তাদের সাথে ছিল মাত্র দুইটি ঘোড়া ও সত্তরটি উট। দুই পক্ষ মুখোমুখি হয় বদরের ময়দানে।
যুদ্ধে মুসলমানরা আল্লাহর সাহায্যে সুস্পষ্ট বিজয় লাভ করে। কুরআনে একে “ইয়াওমুল ফুরকান” বা সত্য-মিথ্যার ফয়সালার দিন বলা হয়েছে। এ যুদ্ধে মুসলমানদের ঈমান, সাহস ও আল্লাহর ওপর নির্ভরতার দারুন উদাহরণ দেখা যায়। আল্লাহ ফেরেশতা পাঠিয়ে তাদের সাহায্য করেছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) যুদ্ধের আগে হাত তুলে দোয়া করেছিলেন:
اللهم، إن تهلك هذه العصابة لا تعبد بعدها في الأرض، اللهم أنجزني ما وعدتني، اللهم نصرك.
“হে আল্লাহ! যদি আজ এ দলটি ধ্বংস হয়ে যায়, তবে পৃথিবীতে আর তোমার ইবাদত হবে না। হে আল্লাহ! তোমার প্রতিশ্রুত বিজয় আমাদের দাও”।
এই যুদ্ধ মুসলমানদের মনোবল অনেক বাড়িয়ে দেয় এবং ইসলামকে শক্ত ভিত্তি দেয়। (তাফসীর আল-মুনীর, জুহাইলী: ৬৫) ।

বদরের যুদ্ধ থেকে শিক্ষণীয় বিষয়:
বদরের যুদ্ধ শুধু একটি ঐতিহাসিক বিজয় নয়, এটি আমাদের জন্য এক গভীর শিক্ষার ক্ষেত্র।
– ঐক্যের শক্তি: মুসলমানরা সংখ্যায় কম ছিল, তবু ঐক্যবদ্ধ থেকে বড় বাহিনীকে পরাজিত করেছে।
– আল্লাহর ওপর ভরসা (তাওয়াক্কুল): তারা নিজেদের সামর্থ্যের ওপর নয়, বরং আল্লাহর সাহায্যের ওপর নির্ভর করেছিল।
– দোয়ার গুরুত্ব: রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর দোয়া ছিল বিজয়ের প্রধান মাধ্যম।
– ধৈর্য ও সাহস: মুসলমানরা কষ্ট, ক্ষুধা, দুর্বলতা সত্তে¡ও দৃঢ়ভাবে লড়াই করেছে।
– ইসলামের মর্যাদা রক্ষার দায়িত্ব: এ যুদ্ধ প্রমাণ করেছে, ঈমান রক্ষা ও সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনে ত্যাগ স্বীকার করতে হয়।

আয়াতসমূহের শিক্ষা:
১। ১২৩ নং আয়াত থেকে দুইটি বিষয় পরিলক্ষিত হয়:
(ক) আয়াতের প্রথমাংশে বদর যুদ্ধে মুসলমানদের প্রতি আল্লাহ তাঁর নেয়ামতের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। এ থেকে বুঝা যায়, মানুষকে আল্লাহর অনুগ্রহ ও বিপদের কথা স্মরণ করানো মোস্তাহাব, যাতে মানুষ তা থেকে উপদেশ গ্রহণ করে ও শিক্ষা নেয়। (আইসার আল-তাফাসীর, জাযায়েরী: ১/৩৭১) । এই কথাটির মূল অর্থ হলো- একজন দায়ীর উপর মানুষকে আল্লাহর দান ও রহমতের কথা যেমন মনে করানো উচিত, তেমনি আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা বিপদ, পরীক্ষা বা শাস্তির ঘটনাগুলিও স্মরণ করানো প্রয়োজন। এতে মানুষ চিন্তা-ভাবনা করে, নিজের অবস্থার সংশোধন করে এবং আল্লাহর পথে ফিরে আসে। যেমন কোরআনের আরেকটি আয়াতে এসেছে:
﴿وَذَكِّرْ فَإِنَّ الذِّكْرَى تَنْفَعُ الْمُؤْمِنِينَ﴾ [سورة الذاريات: ৫৫].
অর্থ: “আর স্মরণ করিয়ে দাও, কারণ স্মরণ করানো মুমিনদের উপকারে আসে” (সূরাতু আয-যারিয়াত: ৫৫) । আল্লাহর অনুগ্রহ স¥রণ করানোর অন্যতম উপকারিতা হলো- যখন মানুষ আল্লাহর নিয়ামত, দয়া ও রহমতের কথা স্মরণ করে, তখন তার মনে কৃতজ্ঞতার অনুভূতি জাগে। সে বুঝতে পারে যে, আমি যে নিঃশ্বাস নিচ্ছি, সেটিও আল্লাহর দান। আমার স্বাস্থ্য, পরিবার, নিরাপত্তা, জ্ঞান, রিজিক সবই তাঁর অনুগ্রহ। এর ফলে তার হৃদয়ে আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা ও আনুগত্যের মানসিকতা জন্ম নেয়। এমন স্মরণ মানুষকে ইবাদত ও সৎকাজে উৎসাহী করে তোলে। কোরআনে আল্লাহ তায়ালা তার নেয়ামত স্মরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন:
﴿وَاذْكُرُوا نِعْمَتَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ﴾ [سورة المائدة: ৭].
অর্থ: “তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ কর” (সূরাতু আল-মায়িদাহ: ৭) ।
অনুরুপভাবে বিপদ ও শাস্তির কথা স্মরণ করানোর উদ্দেশ্য হলো- মানুষ যখন শুধু সুখ ও আরামের মধ্যে থাকে, তখন প্রায়ই ভুলে যায় যে দুনিয়া পরীক্ষার জায়গা। তাই বিপদ, শাস্তি বা অতীত জাতিগুলোর ধ্বংসের ঘটনা স্মরণ করানো মানুষের আত্মসমালোচনা ও সতর্কতা জাগিয়ে তোলে। আল্লাহ তায়ালা বলেন:
﴿فَاعْتَبِرُوا يَا أُولِي الْأَبْصَارِ﴾ [سورة الحشر: ২].
অর্থ: “অতএব শিক্ষা গ্রহণ কর, হে চক্ষুমান ব্যক্তিবর্গ” (সূরাতু আল-হাশর: ২) । অতীতের জাতিগুলোর ধ্বংস ও শাস্তি স্মরণ করা মানুষকে শিখায় যে, যদি আমরা তাদের মতো আল্লাহর অবাধ্যতা করি, তাহলে আমরাও শাস্তি থেকে রেহাই পাব না।
নবীদের দাওয়াতেও এই পদ্ধতি বিদ্যমান ছিল। তারা মানুষকে উপদেশ দিতেন দুইভাবে:
(ক) আল্লাহর নিয়ামতের কথা স্মরণ করিয়ে কৃতজ্ঞতা ও আনুগত্যে আহ্বান জানিয়ে।
(খ) বিপদ ও আযাবের কথা স্মরণ করিয়ে পাপ থেকে বিরত থাকতে সতর্ক করে।
যেমন, নবী নূহ (আঃ) তাঁর কওমকে বলেছিলেন:
﴿يُرْسِلِ السَّمَاءَ عَلَيْكُمْ مِدْرَارًا – وَيُمْدِدْكُمْ بِأَمْوَالٍ وَبَنِينَ وَيَجْعَلْ لَكُمْ جَنَّاتٍ وَيَجْعَلْ لَكُمْ أَنْهَارًا﴾ [سورة نوح: ১১-১২].
অর্থ: “তিনি তোমাদের জন্য আকাশ থেকে পরপর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, এবং সম্পদ ও সন্তান দ্বারা তোমাদের সাহায্য করবেন” (সূরা নূহ: ১১-১২) । এখানে নিয়ামতের প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
আবার অন্য জায়গায় তিনি বলেন:
﴿إِنِّي أَخَافُ عَلَيْكُمْ عَذَابَ يَوْمٍ عَظِيمٍ﴾ [سورة الشعراء: ১৩৫].
অর্থ: “আমি তোমাদের জন্য মহান দিনের আযাব আশঙ্কা করছি” (সূরাতু আশ শুয়ারা: ১৫৫)। এ আয়াতে শাস্তির সতর্কতা রয়েছে।
সুতরাং, মানুষের হৃদয় জাগ্রত রাখতে অনুগ্রহের স্মরণ কৃতজ্ঞতা জাগায় আর বিপদের স্মরণ ভয় ও সতর্কতা জাগায়। দুই দিকেরই ভারসাম্য থাকা চাই, যাতে মানুষ কেবল ভয় নয়, ভালোবাসা ও আশা নিয়েও আল্লাহর দিকে ফিরে আসে। (আল্লাহই ভালো জানেন) ।
(খ) আয়াতের শেষাংশে বলা হয়েছে, আল্লাহকে ভয় করা তাঁর শুকরিয়া অর্জনের মাধ্যম। আবু বকর আল-জাযায়িরী (রহ.) বলেন: আল্লাহর আদেশ মেনে চলা এবং তাঁর নিষেধ থেকে বিরত থাকাই প্রকৃত তাকওয়ার প্রকাশ, আর এই তাকওয়াই হলো বান্দার পক্ষ থেকে আল্লাহর প্রতি সত্যিকারের কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পথ। (আইসার আল-তাফাসীর, জাযায়েরী: ১/৩৭১) ।
ইমাম মারাগী (র.) বলেন, আল্লাহর প্রতি প্রকৃত তাকওয়া ও কৃতজ্ঞতা একটি মুমিনের জীবনের ভিত্তি। আল্লাহর ভীতি ধারণ করা মানে হলো তাঁর আজ্ঞা পালন করা এবং তাঁর হারাম বা নিষিদ্ধ থেকে বিরত থাকা। এভাবেই বান্দা নিজেকে প্রশিক্ষণ দেয়, যাতে তিনি আল্লাহর প্রদত্ত নিয়ামত যথাযথভাবে ব্যবহার করতে পারেন। আল্লাহ যে নিয়ামত দিয়েছেন, যেমন শত্রুদের প্রতি বিজয়, ধর্মের প্রসার এবং সত্যের পথে পরিচালিত হওয়া, সেগুলো বান্দাকে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রদর্শনের সুযোগ দেয়। কিন্তু যে ব্যক্তি তাকওয়ার মাধ্যমে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়, তার ওপর প্রলুব্ধি ও কামনার প্রভাব বেশি থাকে, ফলে সে আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতের উদ্দেশ্য অনুযাযায়ী ব্যবহার করতে পারে না। সুতরাং আল্লাহর প্রতি প্রকৃত কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ প্রকাশ করতে হলে নিজের জীবনকে তাকওয়া অনুযায়ী পরিচালনা করা আবশ্যক, কারণ তাকওয়া ছাড়া মানব হৃদয় প্রলুব্ধি ও ইচ্ছায় বন্দী হয়ে পড়ে এবং আল্লাহর দানকৃত নিয়ামতের যথাযথ মূল্যায়ন করতে পারে না। (তাফসীর আল-মারাগী: ৪/৫৬) ।
২। (১২৪-১২৫) আয়াতদ্বয় থেকে কয়েকটি বিষয় স্পষ্ট হয়:
(ক) এখানে خطاب (সম্বোধন)-এর রুপে একটি অলঙ্কার বা সৌন্দর্য প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে রাসূলুল্লাহকে (সা.) বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে তাঁকে সম্মানিত করার জন্য এবং এ ইঙ্গিত দেওয়ার জন্য যে, বিজয় সংঘটিত হয়েছে তাঁরই সুসংবাদের মাধ্যমে। (তাফসীর আবী- সাঊদ: ২/৭৯) ।
(খ) যখন মুমিনরা যুদ্ধ করতে অক্ষমতা প্রকাশ করল, তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) তাদেরকে যোদ্ধার সংখ্যা বৃদ্ধি করার সুসংবাদ দিয়েছিলেন। আশ-শা‘বী (রহ.) বলেন: “মুমিনদের কাছে খবর পৌঁছল যে, কুর্জ ইবন জাবির আল-হানাফি মুশরিকদের সাহায্যের জন্য সৈন্য নিয়ে আসতে চাচ্ছে। এ খবর মুমিনদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর ছিল। তখনই এই আয়াত অবতীর্ণ হয়, এবং এখানে আল্লাহ তাআলা সেই ঘটনাটিই বর্ণনা করেছেন। (তাফসীর আবী- সাঊদ: ২/৮০) ।
(গ) ইমাম তাবারী (রহ.) সহ অধিকাংশ তাফসীরকারকের মতে, বদরের যুদ্ধে আল্লাহ তায়ালা মুসলমানদেরকে তিনটি ধাপে প্রথমে এক হাজার, এরপর তিন হাজার, অবশেষে পাঁচ হাজার ফেরেশতা সৈন্য দিয়ে সাহায্য করেছিলেন। ইমাম কাতাদা (রহ.) বলেন: ফেরেশতাদের মাধ্যমে সাহায্য করা হয়েছিল বদরের দিনেই। প্রথমে আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে এক হাজার ফেরেশতা দ্বারা সাহায্য করেছিলেন, পরে তা তিন হাজারে পরিণত হয়, তারপর পাঁচ হাজারে পৌঁছে যায়। যেমন আল্লাহ তায়ালার বাণী:
﴿إِذْ تَسْتَغِيثُونَ رَبَّكُمْ، فَاسْتَجابَ لَكُمْ أَنِّي مُمِدُّكُمْ بِأَلْفٍ مِنَ الْمَلائِكَةِ مُرْدِفِينَ﴾ [سورة الأنفال: ৯].
“যখন তোমরা তোমাদের প্রভুর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করলে, তখন তিনি তোমাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বললেন: আমি এক হাজার ফেরেশতা দ্বারা তোমাদের সাহায্য করব, যারা একে অপরের পর আসবে” (সূরাতু আল-আনফাল: ৯) ।
উল্লেখিত ১২৪ নং আয়াতও একই ঘটনার সাথে সম্পর্কিত: “তোমাদের প্রভু যদি তিন হাজার অবতীর্ণ ফেরেশতা দ্বারা তোমাদের সাহায্য করেন, তবে কি তা তোমাদের জন্য যথেষ্ট নয়?” (সূরাতু আলে ইমরান: ১২৪) ।
আর ১২৫ নং আয়াতও তাই নির্দেশ করে: “অবশ্যই, যদি তোমরা ধৈর্য ধরো এবং তাকওয়া অবলম্বন করো, আর তারা (শত্রুরা) হঠাৎ তোমাদের আক্রমণ করে, তাহলে তোমাদের প্রভু পাঁচ হাজার চিহ্নিত ফেরেশতা দ্বারা তোমাদের সাহায্য করবেন” (সূরাতু আলে ইমরান, ৩:১২৫) ।
অতএব, বদরের দিনে মুমিনরা ধৈর্য ধরেছিল, তাকওয়া অবলম্বন করেছিল, তাই আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রতিশ্রæতি অনুযায়ী তাদেরকে পাঁচ হাজার ফেরেশতা দ্বারা সাহায্য করেছিলেন। এই সব ঘটনাই বদরের দিনের সঙ্গে সম্পর্কিত। (তাফসীর আল-মুনীর, জুহাইলী: ৪/৭২) ।
(গ) আয়াত ১২৫-এ আল্লাহ তাআলা বদর যুদ্ধে মুসলিম বাহিনীকে পাঁচ হাজার ফেরেশতার সাহায্য পাওয়ার জন্য তিনটি শর্ত নির্ধারণ করেছিলেন:
(ক) ধৈর্য ধারণ করা,
(খ) আল্লাহকে ভয় করা (তাকওয়া অবলম্বন করা),
(গ) শত্রু বাহিনীর অতিরিক্ত অংশ স্বল্প সময়ের মধ্যেই যুদ্ধে যোগদান করা।
৩। (১২৬-১২৭) নং আয়াতদ্বয় থেকে দুইটি বিষয় স্পষ্ট হয়:
(ক) আল্লাহ বদর যুদ্ধে মুসলমানদেরকে তিনটি উদ্দেশ্যে ফেরেশতা দিয়ে সাহায্য করেছেন:
(র) মুসলমানদেরকে উৎসাহ ও সাহস যোগানো।
(রর) তাদের অন্তরে মানুষিক দৃঢ়তা ও স্থিরতা সৃষ্টি করা।
(ররর) কুফর ও শিরকের নেতৃত্বকে ধ্বংস করা বা তাদেরকে অপমানিত করা।
(খ) আল্লাহর সাহায্যই প্রকৃত বিজয়ের উৎস, এই কথাটি আমাদের শেখায় যে, মানুষের বাহ্যিক শক্তি, অস্ত্র বা কৌশল বিজয়ের মূল উপকরণ নয়; বরং বিজয় আসে একমাত্র আল্লাহর অনুমতি ও সাহায্যের মাধ্যমেই, যা ১২৬ নং আয়াতের শেষাংশে বলা হয়েছে। ইতিহাসের উদাহরণে দেখা যায়, বদরের যুদ্ধে মুসলমানরা ছিল সংখ্যায় অল্প ও সামর্থ্যে দুর্বল, কিন্তু আল্লাহর সাহায্য লাভের ফলে তারা বিশাল শত্রুবাহিনীকেও পরাজিত করেছিল। আল্লাহর সাহায্য মানে কেবল ফেরেশতা প্রেরণ নয়; বরং অন্তরে সাহস, স্থিরতা, সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের শক্তি এবং মানসিক প্রশান্তি দানও তাঁর সাহায্যের অংশ। তাই প্রকৃত মুমিন বাহ্যিক উপকরণে নয়, বরং ঈমান, তাকওয়া ও ধৈর্যের মাধ্যমে আল্লাহর অনুগ্রহ অর্জনের চেষ্টা করে, কারণ বিজয়-পরাজয়ের চ‚ড়ান্ত সিদ্ধান্ত একমাত্র আল্লাহর হাতেই। (তাফসীর আল-মুনীর, জুহাইলী: ৪/৭৫) ।
৪। (১২৮-১২৯) নং আয়াতদ্বয় থেকে কয়েকটি বিষয় স্পষ্ট হয়:
(ক) নিম্নোক্ত তিনটি বিষয়ের ওপর একচ্ছত্র কর্তৃত্ব একমাত্র আল্লাহ তাআলার; এসব বিষয়ে অন্য কারও কোনো হস্তক্ষেপ বা স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার নেই, সে নবী-রাসূল হোক, ফেরেশতা হোক কিংবা রাজা-বাদশা। বিষয়গুলো হলো: কাউকে বদদোয়া বা লা‘নাত করা, অতিরিক্ত সহানুভূতির কারণে দোষী অপরাধীকে ক্ষমা করে দেওয়া, এবং আত্মপ্রতিশোধের উদ্দেশ্যে যালিমকে শাস্তি প্রদান করা। (তাফসীর আস-সা‘দী: ১/১৪৬) ।
(খ) আসমান ও জমিনের রাজত্ব আল্লাহরই। এর মধ্যে যা কিছু আছে, সবই তাঁর সৃষ্টি ও বান্দা। তিনি যেভাবে ইচ্ছা তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেন। তিনি যথাযথ প্রজ্ঞা ও ন্যায়ের ভিত্তিতে যাকে চান ক্ষমা করেন, আর যাকে চান শাস্তি দেন।
এ শিক্ষাটি রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর উম্মতের জন্য, যেন তারা জানে যে, সবকিছু আল্লাহরই নিয়ন্ত্রণে। (তাফসীর আল-মুনীর, জুহাইলী: ৪/৭৭) ।

আয়াতসমূহের আমল:
(ক) আল্লাহকে ভয় ও তাঁর আদেশ-নিষেধ মেনে চলার মাধ্যমে তাঁর অনুগ্রহের প্রকৃত কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা।
(খ) বিজয় অর্জনের জন্য ধৈর্য ও তাকওয়ার গুণে নিজেকে সমৃদ্ধ করা।
(গ) দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস রাখা যে, আল্লাহ তায়ালাই সর্বশক্তিমান, আর তাঁর সাহায্যই প্রকৃত বিজয়ের একমাত্র উৎস।

Leave a Reply

error: Content is protected !!