Skip to main content

সূরাতু আলে-েইমরানের (১৪২-১৪৫) আয়াতের তাফসীর, আলোচ্যবিষয়: প্রত্যাশার রঙিন স্বপ্ন ভেঙ্গে যায় বাস্তবতার কঠিন আঘাতে।

Daily Basis Verse Explanation | A Verse in A Day

﴿أَمْ حَسِبْتُمْ أَنْ تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ وَلَمَّا يَعْلَمِ اللَّهُ الَّذِينَ جَاهَدُوا مِنْكُمْ وَيَعْلَمَ الصَّابِرِينَ (142) وَلَقَدْ كُنْتُمْ تَمَنَّوْنَ الْمَوْتَ مِنْ قَبْلِ أَنْ تَلْقَوْهُ فَقَدْ رَأَيْتُمُوهُ وَأَنْتُمْ تَنْظُرُونَ (143) وَمَا مُحَمَّدٌ إِلَّا رَسُولٌ قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلِهِ الرُّسُلُ أَفَإِنْ مَاتَ أَوْ قُتِلَ انْقَلَبْتُمْ عَلَى أَعْقَابِكُمْ وَمَنْ يَنْقَلِبْ عَلَى عَقِبَيْهِ فَلَنْ يَضُرَّ اللَّهَ شَيْئًا وَسَيَجْزِي اللَّهُ الشَّاكِرِينَ (144) وَمَا كَانَ لِنَفْسٍ أَنْ تَمُوتَ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ كِتَابًا مُؤَجَّلًا وَمَنْ يُرِدْ ثَوَابَ الدُّنْيَا نُؤْتِهِ مِنْهَا وَمَنْ يُرِدْ ثَوَابَ الْآخِرَةِ نُؤْتِهِ مِنْهَا وَسَنَجْزِي الشَّاكِرِينَ (145)﴾ [سورة آل عمران: 142-145].

আয়াতসমূহের আলোচ্যবিষয়: প্রত্যাশার রঙিন স্বপ্ন ভেঙ্গে যায় বাস্তবতার কঠিন আঘাতে।

আয়াতসমূহের সরল অনুবাদ:
১৪২। তোমরা কি মনে কর যে জান্নাতে তোমরা প্রবেশ করবে? অথচ আল্লাহ এখনও জানেননি তোমাদের মধ্য থেকে কারা জিহাদ করেছে এবং জানেননি ধৈর্যশীলদেরকেও।
১৪৩। আর তোমরা উহুদে ভয়ঙ্কর অবস্থার সাক্ষাত পাওয়ার পূবে শাহাদাত কামনা করতে, এখন তোমরা তা স¦চক্ষে তাকিয়ে দেখলে।
১৪৪। আর মোহাম্মদ কেবল একজন রাসূল, তার পূর্বে বহু রাসূল গত হয়ে গিয়েছে। সুতরাং যদি সে মারা যায় অথবা তাকে কতল করা হয়, তাহলে তোমরা কি পিছনের দিকে ফিরবে? আর যে ফিরে যাবে তার পিছনের দিকে, সে আল্লাহকে কখনো কোন ক্ষতি ক্ষতি করতে পারে না; আর অচিরেই আল্লাহ প্রতিদান দিবেন কৃতজ্ঞদের।
১৪৫। আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কারো মৃত্যুহয় না, তা নির্দিষ্টভাবে লিখিত আছে। আর যে দুনিয়ার সওয়াব চায়, আমি তাকে তা দেই; আর যে আখেরাতের সওয়াব চায়, আমি তাকে তা দেই, এবং আমি অচিরেই কৃতজ্ঞদের প্রতিদান দিব।
আায়াতসমূহের ভাবার্থ:
১৪২ নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা মুমিনদের তিরস্কার করেছেন এ কারণে যে, তারা মনে করেছিল শুধু ঈমান আনলেই জান্নাতে প্রবেশ করা সম্ভব, কোনো জিহাদ বা কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি না হয়েও! অথচ আল্লাহ তায়ালা মানুষকে পরীক্ষা করেন জিহাদ ও বিপদের মাধ্যমে, যাতে প্রকৃত মুমিন ও মিথ্যা দাবিদারদের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে যায়, এবং ধৈর্যশীল, স্থিরচেতা ঈমানদারদেরকে আলাদা করে চেনানো যায়।
পরের আয়াতে আল্লাহ তায়ালা তাদের ধৈর্যের অভাব ও যুদ্ধক্ষেত্রে পিছু হটার কারণে তিরস্কার করেছেন, এবং তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করা সেইসব ব্যক্তিদের কথা, যারা তখন দুঃখ করেছিল যে, বদরে উপস্থিত না থাকার কারণে তারা কত বড় সওয়াব ও গনিমত থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তারা প্রতিজ্ঞা করেছিল, ভবিষ্যতে যদি কখনো যুদ্ধের সুযোগ আসে, তারা সাহসিকতার সঙ্গে অংশ নেবে। কিন্তু যখন উহুদের যুদ্ধের সময় সেই সুযোগ এলো, তখন তারা ভীত হয়ে পড়ল, ধৈর্য হারাল এবং পলায়ন করল।
এরপর তৃতীয় আয়াত (১৪৪)-এ আল্লাহ তায়ালা রাসূলুল্লাহর (সা.) সাহাবিদের প্রতি কঠোর ভৎসনা করেন। যুদ্ধ চলাকালে যখন পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠল এবং মুসলমানদের পেছন থেকে পাহারা দেওয়া তীরন্দাজরা স্থান ত্যাগ করল, তখন শত্রুরা পিছন দিক থেকে আক্রমণ করে। এই সময় ইবনু কামীআহ নামক মুশরিক একটি পাথর ছুড়ে রাসূলুল্লাহর (সা.) মুখে আঘাত করে, এতে তার দাঁত ভেঙে যায় এবং কপাল ফেটে যায়। তারপর সে ঘোষণা করে- “মুহাম্মদ নিহত হয়েছেন!”।
এই সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই মুসলমানদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়, অনেকে হতাশ হয়ে যুদ্ধ থামিয়ে দেয়, কেউ কেউ বলে, “রাসূলুল্লাহ মারা গেলে আমরা কেন যুদ্ধ করব?” আবার কিছু মুনাফিক বলে, “চলো, আবদুল্লাহ ইবনু উবাই (মুনাফিকদের নেতা)-কে বলি, সে যেন আবু সুফিয়ান থেকে আমাদের জন্য নিরাপত্তার অঙ্গীকার নেয়, আমরা আগের ধর্মে ফিরে যাই!”। তখন আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেন- তিনি একজন মানব ও রাসুল, আর তাঁর মৃত্যুতেই ইসলামের সমাপ্তি নয়। যেহেতু পূর্বের নবীরাও মৃত্যুবরণ করেছেন, তাই তাঁর মৃত্যুতে কারও অবাক হওয়ার কিছু নেই।
এরপর আল্লাহ কঠোরভাবে তিরস্কার করেন তাদেরকে, যারা ইবলিসের মুখে “মুহাম্মদ নিহত হয়েছেন” এই গুজব শুনে যুদ্ধক্ষেত্র ছেড়ে পালিয়ে যায়। কেউ কেউ তো প্রকাশ্যে কপটতা করে ইসলাম ত্যাগের কথাও বলে। আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন- যারা পলায়ন করেছে বা ধর্মত্যাগ করেছে, তারা নিজেরাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; আল্লাহ তাদের ঈমান বা সহায়তার মুখাপেক্ষী নন। বরং যারা স্থির থেকেছে, কৃতজ্ঞ থেকেছে এবং নবীর প্রতি আনুগত্য অব্যাহত রেখেছে, আল্লাহ তাদেরকে দুনিয়া ও আখিরাতে উত্তম প্রতিদান দেবেন।
অতপর চতুর্থ আয়াত তথা ১৪৫ নং আয়াতে আল্লাহ দুটি গুরুত্বপূর্ণ সত্য তুলে ধরেছেন:
(ক) জীবন-মৃত্যুর নির্ধারিত সময় ও আল্লাহর অনুমতি, কানো প্রাণ আল্লাহর অনুমতি ছাড়া মরতে পারে না। মৃত্যুর নির্দিষ্ট সময় আল্লাহর কাছে নির্ধারিত, এমনকি মুহূর্ত পর্যন্ত নির্ভুলভাবে তা লিপিবদ্ধ। ফেরেশতারা আল্লাহর আদেশ ছাড়া কারো আত্মা কবজ করতে পারে না।
(খ) দুনিয়া ও আখিরাতের পুরস্কার নির্ভর করে নিয়তের ওপর, যে আল্লাহর নামে যুদ্ধ করে কিন্তু তার লক্ষ্য দুনিয়া লাভ, সে কিছু দুনিয়াবি পুরস্কার পেতে পারে, কিন্তু আখিরাতের কোনো পুরস্কার পাবে না। অপরদিকে যে শুধুমাত্র আখিরাতের পুরস্কার কামনা করে, আল্লাহ তাকে দুনিয়াতেও যা নির্ধারিত তা দেন, আর আখিরাতে দেন চিরস্থায়ী জান্নাত ও এমন নাজাত যা “কোনো চোখ দেখেনি, কোনো কান শোনেনি, কোনো হৃদয়ে কল্পনা হয়নি”। (আইসার আল-তাফাসীর, জাযায়েরী: ১/৩৮৫-৩৮৬; তাফসীর আল-মুনীর, জুহাইলী: ৪/১০৮-১১৪; আল-তাফসীর আল-মুয়াস্সার: ১/৬৮; আল-মুনতাখাব: ১/১১০-১১১) ।
আয়াতসমূহের বিরল শব্দের ব্যাখ্যা:
﴿أَمْ حَسِبْتُمْ﴾ ‘তোমরা কি মনে কর’, আয়াতাংশের অর্থ হলো- বরং তোমরা ভুল ধারণা করেছিলে, অথচ তোমাদের এমন ধারণা করা উচিত ছিল না। এখানে প্রশ্নটি আসলে তিরস্কারমূলক অর্থাৎ ভৎসনাসূচক প্রশ্ন। (তাফসীর গরীব আল-কোরআন, কাওয়ারী: ৩/১৪২) ।
﴿وَلَقَدْ كُنتُمْ تَمَنَّوْنَ المَوْتَ مِن قَبْلِ أَن تَلْقَوْهُ﴾ ‘আর তোমরা মৃত্যু কামনা করতে, তার সাক্ষাতের পূর্বে’, আয়াতাংশের উদ্দেশ্য হলো- মুসলিমদের মধ্যে কিছু মানুষ বদরের দিনের মতো একটি দিন কামনা করেছিল যাতে তারা তাতে লড়াই করে শহীদ হতে পারে; আল্লাহ তাদের উহুদ দিবসে সেই সত্য দেখালেন। সুতরাং আয়াতের অর্থ হবে- তোমরা উহুদের যুদ্ধে মৃত্যুর সম্মুখীন হওয়ার পূর্বে বদরের যুদ্ধে শহীদী মরণ প্রত্যাশা করেছিলে। (তাফসীর গরীব আল-কোরআন, কাওয়ারী: ৩/১৪৩) ।
﴿انْقَلَبْتُمْ عَلَى أَعْقَابِكُمْ﴾ ‘তোমরা তোমাদের পিছনের দিকে ফিরে যাবে’, অর্থাৎ: তোমরা ইসলাম ছেড়ে কুফরের দিকে ফিরে যাবে। (তাফসীর গরীব আল-কোরআন, কাওয়ারী: ৩/১৪৪) ।
﴿كِتَابًا مُّؤَجَّلًا﴾ ‘নির্দিষ্ট কিতাব’, অর্থাৎ: আল্লাহ তাআলা মানুষের মৃত্যুর সময় নির্ধারিত করেছেন এবং তা নির্দিষ্ট সময়ে স্থির আছে; এটি এক মুহূর্তও আগাতে বা পিছিয়ে যেতে পারে না। (তাফসীর গরীব আল-কোরআন, কাওয়ারী: ৩/১৪৫) ।
উল্লেখিত আয়াতসমূহের সাথে পূর্বের আয়াতের সম্পর্ক:
আলোচনার ধারাবাহিকতা এখনো উহুদের বীর মুমিনদের নিয়েই। পূর্ববর্তী আয়াতসমূহে তাদের উদ্দেশ্যে নির্দেশ এসেছে- দুঃখে ভেঙে পড়ো না, দুর্বল হয়ো না। যে বিপদ ও পরীক্ষা তোমাদের সম্মুখীন হয়েছে, তা কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; বরং তা এসেছে আল্লাহর চিরন্তন নিয়ম অনুসারে, যেখানে বিজয় ও পরাজয় পালাক্রমে মানুষের জীবনে আবর্তিত হয়, যেন সত্যনিষ্ঠ ও ঈমানদারদের অন্তরকে যাচাই করে পরিশুদ্ধ করা যায়। এই কঠিন পরীক্ষার মাঝেই নিহিত ছিল ঈমানের দৃঢ়তা ও আত্মিক সান্তনার বার্তা। যেন মুমিনরা জিহাদের প্রতি ভালোবাসায় উদ্বুদ্ধ হয়, আর বিজয়ের উপযুক্ত গুণাবলি- সাহস, ত্যাগ, ধৈর্য ও ঐক্য অর্জন করতে শেখে।
আর উল্লেখিত আয়াতগুলো মুমিনদের শিক্ষা দেয় যে, পরকালের চিরসুখ লাভের পথ হলো জিহাদ ও ধৈর্যের মেহনতি যাত্রা, আর দুনিয়ার সাফল্যের চাবিকাঠি হলো আদর্শে অবিচল থাকা, যুদ্ধক্ষেত্রে নবীর পাশে ঐক্যবদ্ধ থাকা, ত্যাগ, ন্যায় ও ইনসাফে অটল থাকা; কারণ সত্য, সাহস ও ত্যাগের যে পথ, সেটিই মুমিনের প্রকৃত জীবনের পথ, যেখানে আছে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও চূড়ান্ত মুক্তি। (তাফসীর আল-মুনীর, জুহাইলী: ৪/১০৭-১০৮) ।
সূরাতু আলে-ইমরানের ১৪৩ ও ১৪৪ নং আয়াত অবতীর্ণের প্রেক্ষাপট:
ইবনু আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন- সাহাবিদের একদল গভীর আকাক্সক্ষায় বলতেন, “হায়! যদি আমরা বদরের সাহাবিদের মতো শহীদ হতে পারতাম! যদি আমাদেরও বদরের দিনের মতো একটি দিন নসিব হতো, যেখানে আমরা মুশরিকদের মুখোমুখি হয়ে লড়াই করতাম, নিজেদের সর্বোচ্চ ত্যাগ ও সাহসের পরিচয় দিতাম, আর আল্লাহর পথে শহীদ হয়ে জান্নাত অর্জন করতাম। অথবা অন্তত জীবিকা ও সম্মান রক্ষা করে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করতাম”। অবশেষে আল্লাহ তাঁদের সেই আকাক্সিক্ষত দিন দেখালেন উহুদের যুদ্ধের রূপে। কিন্তু সত্যিকারের দৃঢ়তা দেখাতে পারল কেবল তারা-ই, যাদের জন্য আল্লাহ তায়ালা তা চেয়েছিলেন। আর তখনই নাজিল হলো অত্র সূরার ১৪৩ নং আয়াত। এই বাণী যেন স্মরণ করিয়ে দেয়- আকাক্সক্ষা সহজ, কিন্তু বাস্তব পরীক্ষা আসে দৃঢ়তা যাচাই করতে; সত্যিকারের মুমিন সেই, যে পরীক্ষার মুহূর্তে আল্লাহর পথে অবিচল থাকে, ত্যাগে, ধৈর্যে ও ঈমানের দৃঢ়তায় অটল থাকে। (লুবাব আল-নুক‚ল, সুয়ূতী: ৭১) ।
উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বলেন- উহুদের দিনে আমরা রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলাম। আমি পাহাড়ের দিকে উঠলাম, এমন সময় শুনতে পেলাম কিছু ইহুদি বলছে, “মুহাম্মদ নিহত হয়েছেন”। আমি তখন দৃঢ়স্বরে বললাম, “আমি যেন কাউকে না শুনি। যে বলে- মুহাম্মদ নিহত হয়েছেন; সে কথা উচ্চারণকারীকে আমি তার গলা থেকে শিরচ্ছেদ করব!”। এরপর তাকিয়ে দেখি আল্লাহর রাসূল (সা.) জীবিত, আর সাহাবারা তাঁর চারপাশে পুনরায় সমবেত হচ্ছেন। তখনই নাজিল হলো ১৪৪ নং আয়াত:
ইবনু আবি হাতিম রাবি’ থেকে বর্ণনা করেন- উহুদের যুদ্ধে যখন মুসলিমরা গভীর আঘাতে জর্জরিত হলেন, তখন তাঁরা পরস্পর বলাবলি শুরু করলেন- “নবী নিহত হয়েছেন”। কিছু লোক বলল, “যদি তিনি সত্যিই নবী হতেন, তবে মারা যেতেন না”। অন্যরা দৃঢ়চিত্তে বলল, “তোমাদের নবী যাঁর উদ্দেশ্যে যুদ্ধ করেছেন, তোমরাও সেই উদ্দেশ্যেই লড়ো, আল্লাহ তোমাদের বিজয় দিন, অথবা তোমরা শহীদ হয়ে তাঁর সঙ্গে মিলিত হও”। তখন আল্লাহ তায়ালা ১৪৪ নং আয়াত অবতীর্ণ করলেন।
আতিয়্যা আল-আউফি (র.) বলেন- উহুদের দিনে যখন অনেকেই পিছু হটলেন, কেউ কেউ বলল, “মুহাম্মদ আহত হয়েছেন, এখন আত্মসমর্পণ করো, এরা তো তোমাদের ভাই!”। অন্যরা বলল, “যদি মুহাম্মদ সত্যিই আহত হন, তবুও তোমরা সেই পথে এগিয়ে চলো, যেই পথে তোমাদের নবী এগিয়েছিলেন, যতক্ষণ না তাঁর সঙ্গে মিলিত হও”। তখন আল্লাহ তায়ালা ১৪৪ নং আয়াত নাযিল করলেন।
ইবনু রাহুয়াইহ (র.) তাঁর মুসনাদে ইমাম যুহরী থেকে বর্ণনা করেন- উহুদের যুদ্ধে শয়তান চিৎকার করে ঘোষণা দিল, “মুহাম্মদ নিহত হয়েছেন!”। কাব ইবনু মালিক (রা.) বলেন- “আমি ছিলাম প্রথম ব্যক্তি, যিনি রাসূলুল্লাহকে (সা.) চিনতে পেরেছিলাম। আমি তাঁর মুখমন্ডল দেখলাম হেলমেটের ফাঁক দিয়ে চোখদুটি জ্বলজ্বল করছে। আমি উচ্চ কণ্ঠে চিৎকার করে বললাম, ‘এ তো আল্লাহর রাসূল!’”। আর তখনই আল্লাহ তা‘আলা ১৪৪ নং আয়াত নাজিল করলেন। (লুবাব আল-নুক‚ল, সুয়ূতী: ৭১-৭২) ।
আয়াতসমূহের শিক্ষা:
১। ১৪৩ নং আয়াত থেকে দুইটি বিষয় স্পষ্ট হয়:
(ক) জান্নাত লাভ এতটা সহজ নয়, যতটা সহজ আমরা মনে করি। জান্নাত পাওয়ার জন্য বিভিন্ন ধরণের পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয়। এ সম্পর্কে একটি আয়াতে এসেছে:
﴿أَحَسِبَ النَّاسُ أَنْ يُتْرَكُوا أَنْ يَقُولُوا: آمَنَّا، وَهُمْ لا يُفْتَنُونَ﴾ [سور العنكبوت: ২].
অর্থ: “মানুষ কি ধারণা করে যে, তারা ‘আমরা ঈমান এনেছি’ বললেই ছেড়ে দেওয়া হবে, অথচ তাদেরকে পরীক্ষা করা হবে না?” (সূরা আল-আনকাবুত: ২) । জান্নাত লাভের জন্য আল্লাহ তায়ালা দুইটি শর্ত উল্লেখ করেছেন:
(র) আল্লাহর পথে জিহাদ করা, জিহাদের অনেক ধরণ রয়েছে, (ক) নিজের নফস, প্রবৃত্তি ও শয়তানের বিরুদ্ধে জিহাদ, বিশেষত যৌবনের সময়। (খ) আল্লাহর বাণীকে উচ্চে প্রতিষ্ঠিত করা এবং দেশ ও ধর্ম রক্ষার উদ্দেশ্যে শত্রুর বিরুদ্ধে প্রাণপণ জিহাদ। (গ) অর্থের মাধ্যমে জিহাদ, অর্থাৎ দ্বীন, উম্মাহ ও জনকল্যাণে সম্পদ ব্যয় করা। (ঘ) মিথ্যা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রাম এবং সত্যের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করা। (তাফসীর আল-মুনীর, জুহাইলী: ৪/১০৮)।
(রর) ধৈর্য ধারণ করা, ধৈর্য ধারণ করার ক্ষেত্রসমূহ হলো- (ক) নিয়মিত ও অস্থায়ী শরীয়তসম্মত দায়িত্ব পালনে, (খ) আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্যে, (গ) বিপদ, দুঃসময় ও পরীক্ষার মুহূর্তে, এবং (ঘ) শত্রুর মোকাবেলায় দৃঢ় থাকার সময়।
(খ) আয়াতের শেষের অংশে “আল্লাহ জানেন না” বলা দ্বারা বোঝানো হয়নি যে আল্লাহর জ্ঞান নেই; বরং এর অর্থ হলো- এখনও তা বাস্তবে প্রকাশ পায়নি বা ঘটেনি। প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ তো অনন্ত কাল থেকেই সব জানেন; কিন্তু মানুষের সামনে প্রমাণ ও সাক্ষ্য স্থাপন করা হয় যেন তাদের আমল দ্বারা জান্নাত ও মাগফিরাত পাওয়ার যোগ্যতা প্রমাণিত হয়। (তাফসীর আল-মুনীর, জুহাইলী: ৪/১০৮)।
২। ১৪৩ নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা মানবজীবনের একটি চরম বাস্তবতা তুলে ধরেছেন, মানুষের প্রকৃতিতে একটি স্বাভাবিক প্রবণতা আছে- বড় কিছু অর্জনের আকাক্সক্ষা, সম্মান পাওয়ার ইচ্ছা এবং সাহসিকতার স্বপ্ন দেখা। কিন্তু যখন বাস্তব পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়, তখন অনেকে ভয়, দুর্বলতা ও স্বার্থের কাছে পরাজিত হয়। এমনই এক শিক্ষা রয়েছে উহুদের যুদ্ধের ঘটনায়, যা আল্লাহ তায়ালা কুরআনে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। যারা বদর যুদ্ধে অংশ নিতে পারেনি, তারা আকাক্সক্ষা করেছিল- “যদি বদরের মত একটি সুযোগ আসতো এবং যুদ্ধে উপস্থিত থাকতে পারতাম, তবে প্রাণপণ লড়তাম, শহীদ হতাম, আল্লাহর পথে নিজেদের উৎসর্গ করতাম। কিন্তু যখন পরবর্তী বছর উহুদের ময়দানে সত্যিকার অর্থে যুদ্ধ উপস্থিত হলো- বর্শার ঝনঝন, তীরের শব্দ, মৃত্যু ও রক্তের বাস্তব চিত্র চোখের সামনে দেখা দিল, তখন তাদের একদল ভয় পেয়ে পিছিয়ে গেল। রাসুলুল্লাহ (সা.) তখন একা দাঁড়িয়ে রইলেন, শত্রুর তীর নিজের উপর নিচ্ছিলেন, আর তাঁর সাথিদের আহ্বান করছিলেন: “এসো! আমার পাশে দাঁড়াও, ধৈর্য ধরো, আল্লাহর পথে দৃঢ় থাকো”। এই শিক্ষা আমাদের মনে করিয়ে দেয়- আল্লাহর পথে সাফল্য, মর্যাদা ও জান্নাত চাওয়া যথেষ্ট নয়; এর জন্য আত্মসংযম, ধৈর্য ও সাহস অপরিহার্য। সুতরাং একজন মুমিনের হওয়া উচিৎ এমন, সে স্বপ্ন দেখে, কিন্তু বাস্তবতার মুখে ভয় পায় না; সে প্রতিজ্ঞা করে এবং সেই প্রতিজ্ঞার মূল্য দিতে পস্তুত থাকে; বিপদের সময়ও সে রাসুলুল্লাহর (সা.) এর অনুসরণ থেকে পিছ পা হয় না; তার ঈমান কেবল মুখের কথা নয়, বাস্তব পরীক্ষায়ও তা প্রমাণিত হয়। (আল্লাহই ভালো জানেন) ।
৩। ১৪৪ নং আয়াত থেকে তিনটি বিষয় স্পষ্ট হয়-
(ক) রাসুলুল্লাহ (সা.) অন্যান্য নবী-রাসূলদের মতো মানুষ, রাসুলুল্লাহ (সা.) আল্লাহর প্রেরিত একজন নবী ও রাসূল, যেমন পূর্বে মুসা, ঈসা, জাকারিয়া ও ইয়াহইয়া (আ.) ছিলেন। তাঁদের কেউ মৃত্যুবরণ করেছেন, কেউ শহীদ হয়েছেন; তবুও তাদের দীন অটুট থেকেছে। তেমনি রাসুলুল্লাহ-ও (সা.) মৃত্যুবরণ করবেন, কিন্তু ইসলাম ধর্ম চিরস্থায়ী থাকবে। কারণ রাসুলুল্লাহ (সা) একজন মানুষ, কিন্তু তিনি যে বার্তা এনেছেন, সেটি আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর আল্লাহ চিরঞ্জীব, কখনো মৃত্যুবরণ করেন না। (তাফসীর আল-মুনীর, জুহাইলী: ৪/১০৯-১১০) ।
(খ) রাসূলুল্লাহর (সা.) মৃত্যুর পর কেউ দীন ত্যাগ করলে আল্লাহর কোনো ক্ষতি হবে না, যে কেউ রাসুলুল্লাহর (সা.) মৃত্যুর পর ঈমান থেকে ফিরে যাবে, দীন ছেড়ে দেবে বা জিহাদ থেকে সরে দাঁড়াবে, সে নিজেরই ক্ষতি করবে; আল্লাহর কোনো ক্ষতি হবে না। আল্লাহ স্বয়ং সম্পূর্ণ, তাঁর দীনও তাঁর ইচ্ছায় টিকে থাকবে। মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিলেও সত্য ও ন্যায় কখনো নষ্ট হয় না।
(গ) রাসূলুল্লাহর (সা.) মৃত্যুর পরও যারা দীনের উপর অটল থাকবে, তাদের পুরস্কার, যারা রাসুলুল্লাহর (সা.) জীবদ্দশায় যেমন তাঁর আনুগত্য করেছে, তাঁর মৃত্যুর পরও তেমনি ইসলামের পথে দৃঢ় থাকবে, আল্লাহ তাদেরকে দুনিয়া ও আখিরাতে পুরস্কৃত করবেন। তাঁদের জন্য থাকবে আল্লাহর বিশেষ রহমত, সন্তুষ্টি ও জান্নাতের প্রতিদান। কারণ দীন আল্লাহর, আর যারা দীনকে রক্ষা করে, আল্লাহ তাদের মর্যাদা বাড়িয়ে দেন।
৪। ১৪৫ নং আয়াত থেকে তিনটি বিষয় স্পষ্ট হয়-
(ক) জীবন-মৃত্যু আল্লাহর নির্ধারিত বিধান, আল্লাহ তায়ালা জানিয়েছেন, কেউই আল্লাহর নির্ধারিত সময়ের আগে বা পরে মারা যায় না। প্রত্যেক মানুষের জীবন একটি নির্দিষ্ট মেয়াদে বাঁধা, যেটি “কিতাবান মুঅজ্জালান” (নির্ধারিত সময়) হিসেবে আল্লাহর জ্ঞানে লেখা রয়েছে। তাই দেখা যায় যুদ্ধক্ষেত্রে যে সাহসীভাবে লড়াই করে সে হয়তো বেঁচে যায়, আর যে কাপুরুষ ঘরে লুকিয়ে থাকে, সেও মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পায় না। আল্লাহ বলেন:
﴿وَمَا يُعَمَّرُ مِنْ مُعَمَّرٍ وَلَا يُنْقَصُ مِنْ عُمُرِهِ إِلَّا فِي كِتَابٍ إِنَّ ذَلِكَ عَلَى اللَّهِ يَسِيرٌ﴾ [سورة الفاطر: ১১].
অর্থ: “যার আয়ু দীর্ঘ করা হয় বা কমিয়ে দেওয়া হয়, সবই একটি নির্ধারিত কিতাবে লেখা” (সূরাতু আল-ফাতির:১১) । আরেকটি আয়াতে এসেছে:
﴿فَإِذَا جَاءَ أَجَلُهُمْ لَا يَسْتَأْخِرُونَ سَاعَةً وَلَا يَسْتَقْدِمُونَ﴾ [سورة النحل: ৬১].
অর্থ: “যখন তাদের নির্ধারিত সময় এসে যায়, তারা এক মুহূর্তও এগিয়ে বা পেছনে যেতে পারে না।” (সূরাতু আন-নাহল:৬১) । অর্থাৎ: মানুষের জীবন ও মৃত্যু সম্পূর্ণ আল্লাহর ইচ্ছার অধীনে; সাহস বা ভয়, যুদ্ধ বা শান্তি, কিছুই তাতে পরিবর্তন আনতে পারে না। সুতরাং কেউ মৃত্যুভয়ে দায়িত্ব থেকে পিছু হটবে না। মৃত্যু নির্দিষ্ট সময়েই আসবে, তাই ভীত না হয়ে দায়িত্ব পালনই উচিত।
(খ) মানুষ দুই দলে বিভক্ত: দুনিয়াপ্রেমী ও আখিরাতপ্রেমী, আল্লাহ তায়ালা মানুষের উদ্দেশ্য পরিষ্কারভাবে দুই ভাগে ভাগ করেছেন: (ক) যারা কেবল দুনিয়া চায় এবং (খ) যারা আখিরাতকে লক্ষ্য করে কাজ করে। যে ব্যক্তি শুধু দুনিয়ার স্বার্থে কাজ করে, সে কেবল সেইটুকুই পায় যা আল্লাহ নির্ধারণ করেছেন, কিন্তু আখিরাতে তার কোনো অংশ থাকে না। আর যে ব্যক্তি আখিরাতকে লক্ষ্য করে কাজ করে, আল্লাহ তাকে দুনিয়া ও আখিরাত উভয়েই উত্তম পুরস্কার দেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন:
﴿مَنْ كَانَ يُرِيدُ حَرْثَ الْآخِرَةِ نَزِدْ لَهُ فِي حَرْثِهِ وَمَنْ كَانَ يُرِيدُ حَرْثَ الدُّنْيَا نُؤْتِهِ مِنْهَا وَمَا لَهُ فِي الْآخِرَةِ مِنْ نَصِيبٍ﴾ [سورة الشورى: ২০].
অর্থ: “যে ব্যক্তি আখিরাতের ফসল চায়, আমি তার ফসল বৃদ্ধি করি; আর যে ব্যক্তি দুনিয়ার ফসল চায়, আমি তাকে তার কিছু অংশ দিই, কিন্তু আখিরাতে তার কিছুই নেই।” (সূরাতু আশ-শূরা: ২০) ।
﴿مَنْ كَانَ يُرِيدُ الْعَاجِلَةَ عَجَّلْنَا لَهُ فِيهَا مَا نَشَاءُ لِمَنْ نُرِيدُ ثُمَّ جَعَلْنَا لَهُ جَهَنَّمَ يَصْلَاهَا مَذْمُومًا مَدْحُورًا (১৮) وَمَنْ أَرَادَ الْآخِرَةَ وَسَعَى لَهَا سَعْيَهَا وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَأُولَئِكَ كَانَ سَعْيُهُمْ مَشْكُورًا (১৯)﴾ [سورة الإسراء: ১৮-১৯].
অর্থ: “যে ব্যক্তি কেবল সাময়িক দুনিয়ার স্বার্থ চায়, আমরা তাকে সেই দুনিয়ার যা ইচ্ছা তা তাড়াহুড়ো করে দিই, তবে পরবর্তী ফলাফলের জন্য তাকে জাহান্নামে পাঠাই, যেখানে সে শাস্তিপ্রাপ্ত ও হেয় হয়। আর যে ব্যক্তি আখিরাতকে চায় এবং বিশ্বাসী হয়ে তার জন্য যথাসম্ভব চেষ্টা করে, তাদের চেষ্টা ও পরিশ্রম আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য ও প্রশংসনীয় হয়” (সূরাতু আল-ইসরা: ১৮-১৯) । সুতরাং জীবনের উদ্দেশ্য নির্ভর করে নিয়তের উপর। দুনিয়া সাময়িক, কিন্তু আখিরাত চিরস্থায়ী। তাই জ্ঞানী মানুষ সেই লক্ষ্যই বেছে নেয় যা স্থায়ী-আখিরাত।
(গ) মুমিনের প্রকৃতি আল্লাহর উপর আস্থা ও কৃতজ্ঞতা, আয়াতের শেষাংশে আল্লাহ বলেন: “আমরা কৃতজ্ঞদের প্রতিদান দেব”। অর্থাৎ, যারা রাসূলের আদেশ মেনে চলে, পরাজয়ের ভয় বা লোভে দ্বিধাগ্রস্ত হয় না, আল্লাহ তাদের দুনিয়া ও আখিরাতে পুরস্কৃত করবেন। আর যারা লুটপাটে ব্যস্ত হয়ে রাসূলুল্লাহর আদেশ অমান্য করেছিল (যেমন উহুদের ঘটনায় হয়েছিল), তারা সামান্য দুনিয়া পেলেও আখিরাতের কল্যাণ হারিয়েছে। (আল্লাহই ভালো জানেন) ।
আয়াতসমূহ থেকে করণীয় (আমল):
(ক) জান্নাত লাভ কেবল মুখের আশা বা কল্পনা নয়; বরং তা অর্জনের জন্য সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হয়। আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ঈমানের সত্যতা যাচাই করেন কঠিন সময় ও বিপদের মধ্য দিয়ে। তাই জান্নাতের প্রত্যাশা যেন কর্মে ও ত্যাগে প্রকাশ পায়।
(খ) রাসূলুল্লাহ (সা.) ছিলেন দাওয়াত ও নেতৃত্বের কেন্দ্রবিন্দু, কিন্তু তিনি-ও মানুষ, মৃত্যু তাঁর জন্যও অবধারিত। সুতরাং তাঁর মৃত্যুর পরও হতাশ না হয়ে তাঁর দাওয়াত, তাঁর আদর্শ ও তাঁর মিশনে অবিচল থাকা মুমিনদের দায়িত্ব। ইসলামের ধারক হতে হলে নববী দাওয়াতের পথেই অটল থাকতে হবে।

(গ) জীবন ও মৃত্যু আল্লাহর নির্ধারিত বিষয়, কারও সাহসে আয়ু বাড়ে না, ভয়ে আয়ু কমেও না। তাই ভয় বা ঝুঁকি এড়িয়ে নয়, বরং এই বিশ্বাসে কাজ করতে হবে যে জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দাওয়াত, ত্যাগ ও সংগ্রামের মধ্যে থাকাই প্রকৃত ঈমানদারের পরিচয়।
(ঘ) দুনিয়া ক্ষণস্থায়ী ও প্রতারণার বস্তু; আসল লক্ষ্য হওয়া উচিত আখিরাতের সওয়াব ও আল্লাহর সন্তুষ্টি। যে দাওয়াত, জ্ঞান, ত্যাগ ও কর্ম আখিরাতমুখী, আল্লাহ তার প্রতিদান দেন দ্বিগুণভাবে দুনিয়ায় বরকত দিয়ে এবং আখিরাতে অনন্ত পুরস্কারে ভূষিত করে।

Leave a Reply

error: Content is protected !!